হাইব্রিড ধান কি - উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত

আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। আপনি ও যদি এমন উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে আজকের পোস্টটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের এই পোস্টটিতে আমরা উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের জাত হাইব্রিড ধানের জাত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত
পোস্টসূচিপত্রঃআমাদের দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে প্রায় হিমসিম খেতে হচ্ছে। এই খাদ্য চাহিদা যোগান দেওয়ার জন্য আমাদের সবথেকে উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতের কথা মাথায় রেখে চাষ করা উচিত। তাহলে চলুন এখন আমরা উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

ভূমিকা ।উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত

বাংলাদেশে চাষযোগ্য ধানি জমি দিন দিন কমেই যাচ্ছে। আর অপরদিকে বাংলাদেশের জনসংখ্যার পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জন্সংখ্যার খাদ্যের যোগান দিতে বাংলাদেশ হিমসিম খাচ্ছে। তাই আমাদের কম পরিমাণ জমি হওয়ায় কম পরিমাণ জমিতে চাষ করে অনেক বেশি পরিমাণে খাদ্য শস্য উৎপাদন করতে হবে।

আজকের এই আর্টিকেলটি যদি আপনি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকেন তাহলনে আপনি হাইব্রিড ধান কী? সুপার হাইব্রিড ধান, বোরো ধানের আধুনিক জাত, হাইব্রিড ধানের জাত নাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন এখন বেশি দেরি না করে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যাক।

হাইব্রিড ধান কী

হাইব্রিড ধান বলতে মূলত সেই ধাঙ্কেই বুঝানো হয়ে থাকে যেই ধান দুটি মানানসই ধানের যৌন মিলনের মাধ্যমে যে ধান প্রজনন করা হয়, সেই ধান তার পরবর্তি বংশধরদের প্রজনন অপেক্ষা প্রথম বংশধর অনেক বেশি পরিমাণে ফলন দিতে সক্ষম হয়। অন্যভাবে বলা যেতে পারে যে, যখন ধানের দুটি দুরসম্পর্কীয় জাতের পরস্পর মিলন সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রথম যে পুরুষ ধান উদ্ভাবন হয়, সেই প্রথম পুরুষ ধানটিই হাইব্রিড ধান।
আরো পড়ুনঃ টমেটো চাষ পদ্ধতি
হাইব্রিড ধান হলো মূলত দুটি জাতের মাধ্যমে উদ্ভাবনকৃত প্রথম বংশউদ্ভূত ধানের একটি প্রথম বংশধর। এই ধান মূলত দুটি জাতের পরস্পর সংকরি করণের মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়। এই ধান উচ্চ ফলনশীল তাই সকলেই এই ধান চাষের ক্ষেত্রে অনেক আগ্রহ প্রদান করে থাকে। আর এই উচ্চ ফলনের মাধ্যমে সকল কৃষকগণ লাভবান হন।

সুপার হাইব্রিড ধান

এই ধান অনেক উচ্চ ফলনশীল ধান। এই ধান চাষ করার মাধ্যমে সকল কৃষোকগণ অনেক লাভোবান হবেন। এই ধান বাংলাদেশে বিএডিসি উদ্ভাবন করেন। আর আমরা সকলেই এই কথা জানি যে, বিএডিসি এর বীজ সকল কৃষগণের আস্থার প্রতীক। সকল কৃষকগণ বিএডিসি এর প্রতিকযুক্ত ধান চাষের জন্যে অনেক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিএডিসি কতৃক এই উচ্চ ফলনশীল সুপার হাইব্রিড ধানের জাতের নাম হল SL-8H এটি সাধারণত বোরো মৌসুমে চাষ করা হয়। এই SL-8H আপনি আপনার নিকটস্থ জেলা ও উপজেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্র এবং বীজ ডিলারের কাছে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। এই ধানের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নের এর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হল।
  • SL-8H ধানের একর প্রতি ফলন প্রায় ৪.০-৪.৮ মে.টন।
  • সুপার হাইব্রিড বোরো ধানের জীবনকাল ১৩০-১৩৫ দিন।
  • ধান সাধারণত মাঝারি চিকন ধরণের হয়ে থাকে।

উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত

আমরা সকলেই জানি যে আমাদের ভূমির পরিমাণ কখনোই বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। ভূমি সৃষ্টির আদিকাল থেকে যতটুকু ছিলো এখনো ঠিক ততটুকুই আছে। অপরদিকে আমাদের দেশের জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। এর ফলে আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান দিতে হচ্ছে। আর শস্য আবাদি ভূমি কমে যাওয়ার ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য শস্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাই আমাদেরকে কম পরিমাণ জমিতে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে হবে। তা না হলে আমাদের জীববৈচিত্র বিপাকে পরবে। তাই ভালো ফলন পাওয়ার জন্য আমাদের সকলকেই যেই ধান অনেক উচ্চ ফলন দিতে সক্ষম সেই সকল ধান চাষ করতে হবে। আপনি যদি উচ্চ ফলনশীল  ধানের জাত সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
  • এল পি-০৫
  • মানিক-২
  • সুরমা-৪
  • ব্রি হাইব্রিড-১
  • ব্রি হাইব্রিড-২
  • হীরা-৫
  • অগ্রণী-৭
  • তেজ
আমরা সকলেই জানতাম যে উফশী ধানের জাত সবথেকে বেশি ফলন দেয়। কিন্তু তার থেকে ভালো ফলন এখন উপরের উল্লেখযোগ্য ধানের জাতগুলি দিতে সক্ষম। তাই আপনারা যারা হাইব্রিড ধানের জাত চাষ করতে ইচ্ছুক তিনারা অবশ্যই উপরের উল্লেখকৃত ধানের জাতগুলির কথা মাথায় রেখে ধান চাষ করবেন।

হাইব্রিড ধানের জাত নাম

আপনারা যারা হাইব্রিড ধান চাষ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কিন্তু আপনারা জানেন না কোন কোন হাইব্রিড ধান চাষ করা ভালো হবে। কোন ধান NSB কতৃক অনুমদিত। তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। নিম্নের সকল ধান NSB কতৃক অনুমদিত। চলুন তাহলে এখন আমরা হাইব্রিড ধানের জাত নাম সম্পর্কে জেনে নেই।
  • আলোক - ৬২০১
  • আলোক - ৯৩০২৪
  • লোকনাথ - ৫০৫
  • ব্রি হাইব্রিড ধান - ১
  • জে এফ - ৩১
  • হীরা ৯৯-৫
  • রাইচার - ১০১
  • জিবি - ৪
  • এলপি - ৫০
  • তাজ - ১ ( জিআরএ - ২ )
  • তাজ - ২ ( জিআরএ - ৩ )
  • এলপি - ১০৮
  • তিনপাতা - ১০
  • তিনপাতা - ৪০
  • তিনপাতা - সুপার
  • এলপি - ৭০
  • এসিআই - ১
  • এসিআই - ২
  • SA - 2B ( কৃষাণ - ২ )
  • HRM - 01 ( অগ্রণী - ৭ )
  • HRM - 02 ( স্বারথী ১৪ )
  • রূপসী বাংলা -১
  • HB - 09 ( আলোড়ন -২ )
তথ্যসূত্রঃ কৃষি মন্ত্রণালয়

বোরো ধানের আধুনিক জাতের নাম কিকি

ধান আমাদের দেশের একটি প্রধান খাদ্য শস্য। এই ধানকেই বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে চাল বানানো হয়। আর তারপরে আমরা সেটা খাবার হিসেবে গ্রহণ করি। বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদন করার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এখন বাংলাশের ধান উৎপাদনের গড় ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ৪.২ টন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট দেশের জনগন বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে প্রায় ২৭টি বোরো ধানের আধুনিক জাত উদ্ভাবন করেছেন। এই সকল ধানের জাতগুলি অনেক উচ্চ ফলনশীল। যার ফলে সকলেই এই ধান চাষ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতেছে। তাহলে চলুন এখন বোরো ধানের আধুনিক জাতের নামগুলি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
  • বি আর - ৩
  • বি আর - ১৪
  • বি আর - ১৬
  • বি আর - ১৭
  • বি আর - ১৮
  • বি আর - ১৯
  • ব্রি ধান - ২৮
  • ব্রি ধান - ২৯
  • ব্রি ধান - ৩৬
  • ব্রি ধান - ৪৫
  • ব্রি ধান - ৪৭
  • ব্রি ধান - ৫০
  • ব্রি ধান - ৫৫
  • ব্রি ধান - ৫৮
  • ব্রি ধান - ৫৯
  • ব্রি ধান - ৬০
  • ব্রি ধান - ৬১
  • ব্রি ধান - ৬৩
  • ব্রি ধান - ৬৪
  • ব্রি হাইব্রিড ধান - ১
  • ব্রি হাইব্রিড ধান - ২
  • ব্রি হাইব্রিড ধান - ৩
উপরে উল্লিখিত সকল ধানের আলাদা আলাদা কিছু সকিয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু কিছু ধান কিছু কিছু অঞ্চলভেদে উদ্ভাবন করা হয়েছে। সেই সকল ধান শুধু মাত্র সে সকল নির্দিষ্ট অঞ্চলেই ভালো পরিমাণে উৎপাদন হবে।

তথ্যসূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস

উচ্চ ফলনশীল বোরো ধানের জাত

ইতিমধ্যে আপনারা সকলেই বোরো ধানের আধুনিক জাত সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যেই জাতগুলি আমাদের দেশে অনেক পরিমাণে ধানের ফলন দিতে সক্ষম। এই সকল জাত থাকা সত্বেও এমন কিছু বোরো ধান রয়েছে যেগুলি অনেক পরিমণে উচ্চ ফলন দিতে পারে। চলুন তাহলে এখন এমন কিছু ধানের জাতের কথা জেনে নেওয়া যাক।

বি আর ৮৮ এবং বি আর ৮৯ঃ বাংলাদেশের ধান গবেষণা বিজ্ঞানিগণ তারা অনেক বহু সময় ধরে গবেষণা করার মাধ্যমে এই দুইটি জাত উদ্ভাবন করেন। তারা জানান যে এই জাত বোরো মৌসুমের সময় অনেক উচ্চ মাত্রায় ফলন দিতে সক্ষম। এই দুইটি ধানেরই জীবনকান ধান কাটা পর্যন্ত ১৪৩ দিন। এই দুইটি ধান প্রতি হেক্টর জমিতে ৭টন পরিমাণ ফলন দিতে পারে।

ব্রি ধান ২৮ এবং ব্রি ধান ২৯ঃ এই ব্রি ধান ২৮ এবং ব্রি ধান ২৯ উক্ত ধান উদ্ভাবনের পূর্বেই উদ্ভাবন করা হয়। এই ধান ১৯৯৪ সালে উদ্ভাবন করা হয়। এই ধান সম্পর্কে ধান গবেষণার বিজ্ঞানীগণ জানান যে তারা এই পর্যন্ত জাতীয়ভাবে মোট ১০ টি জায়গায় এই ধানের পরিক্ষামূলক চাষ করেছে। সেখানে তারা প্রতি হেক্টরে ৬০০ কেজি ধানের ফলন বেশি পেয়েছে বলে যানান তারা।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্নঃ এক বিঘা জমিতে কত মণ ধান হয়?
উত্তরঃ এক বিঘা জমিতে সাধারণত ২০ - ২৫ মণ ধান হয়।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের সর্বাধিক সংখ্যক উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান কোনটি?
উত্তরঃ বাংলাদেশের সর্বাধিক সংখ্যক উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান হলো BRRI

প্রশ্নঃ ধান ও চাল কি একই?
উত্তরঃ ধানের একটি সম্পূর্ণ বীজকে ধান বলা হয়। আর ধানের ভেতরে যে দানা থাকে তাকে চাল বলা হয়।

প্রশ্নঃ ভারতের কোন মাটিতে ধান চাষ হয়?
উত্তরঃ ভারতের কোন পলি, দোআঁশ এবং নুড়ির মাটিতে ধান চাষ হয়।

প্রশ্নঃ উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের নাম কি?
উত্তরঃ বিজ্ঞানিরা বলেছেন এখন পর্যন্ত দেশের উচ্চ ফলনশীল ধানের জাতের নাম হলো 'ব্রি ধান ২৮'

প্রশ্নঃ ধান কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ ধান ৩ প্রকার হয়। যেমন
  • আউশ ধান
  • আমন ধান এবং
  • বোরো ধান
প্রশ্নঃ ইরি ধান কখন চাষ হয়?
উত্তরঃ ইরি ধান চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো পৌষ - মাঘ মাস। এই দুই মাসেই ইরি ধান চাষ হয়।

শেষ কথা

আজকে আমাদের এই আর্টিকেলের প্রধান আলোচনার বিষয় ছিলো উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড বিভিন্ন ধানের জাত সম্পর্কে। আশা করছি আপনি সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার মাধ্যমে ফলনশীল হাইব্রিড ধানের জাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন। এই রকম তথ্যবহুল আর্টিকেল প্রতিদিন নিয়োমিত পড়ার জন্য আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url