দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত দেওয়া হয়ে থাকে , দুবাই যেতে কত টাকা লাগে জেনে নিন

প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা কি দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত এ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনারা সঠিক জায়গাতেই রয়েছেন। কারন আজকের পোস্টটিতে দুবাই কোম্পানি বেশি বেতন কত ও দুবাই যেতে কত টাকা লাগে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত
আর্টিকেল সূচিপত্রঃআপনাদের অবশ্যই দুবাই যাওয়ার পূর্বে দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। আর এজন্য আমরা আজকের আর্টিকেলে দুবাই যেতে কত টাকা লাগে ও দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।

ভূমিকা

বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশ আরব আমিরাতের অন্যতম শহর হল দুবাই। দুবাই শহরটি ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নতির দিক দিয়ে খুবই পরিচিত লাভ করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় কোম্পানি দুবাইতে অবস্থিত রয়েছে। যার কারণে দুবাইয়ে প্রচুর কাজের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানিগুলোতে কাজের জন্য শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। এজন্য প্রতিবছর অনেকেই কোম্পানি ভিসাতে দুবাই যেতে চাই এবং সেখানে গিয়ে কোম্পানি ভিসায় কাজ করতে চায়। তবে সবার একটি কমন প্রশ্ন থাকে সেটি হলো দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত। 
আজকে আমরা সেই প্রশ্নের উত্তরটি নিয়ে পুরো পোস্টটিতে বিস্তারিত আলোচনা করব। তাছাড়া ও দুবাই যেতে কত টাকা লাগে এ বিষয়টি সম্পর্কে সকলের জেনে রাখা উচিত। কারণ অনেক এজেন্সি ও দালালরা রয়েছে যারা আপনার কাছ থেকে ভিসার জন্য অতিরিক্ত টাকা নিতে পারে। তাদের থেকে সচেতন হওয়ার জন্য অবশ্যই দুবাই ভিসা খরচ সম্পর্কে জানতে হবে। যা আমরা আজকের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দুবাই যেতে কত টাকা লাগে

দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত এ বিষয়টি সম্পর্কে জানার পূর্বে আপনাদের অবশ্যই দুবাই যেতে কত টাকা লাগে এ সম্পর্কে জানার প্রয়োজন। কারণ দুবাই কাজের উদ্দেশ্যে যেতে হলে অবশ্যই ভিসার প্রয়োজন হয়। আর ভিসা করার জন্য ভিসা খরচ রয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনার ভিসা খরচ সম্পর্কে জানতে হবে। দুবাইতে আপনারা বিভিন্ন ভিসায় যেতে পারবেন 

,যেমনঃ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা , স্টুডেন্ট ভিসা , দুবাই ভিজিট ভিসা , কোম্পানি ভিসা ইত্যাদি সহ আরো অনেক ধরনের ভিসা রয়েছে যার মাধ্যমে দুবাই যেতে পারবেন। আপনার দুবাই যেতে ভিসা খরচ কত হবে সেটা নির্ভর করে মূলত আপনার ভিসার ধরনের উপর। আপনি কোন ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে দুবাই যাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে ভিসা খরচ নির্ধারণ হয়ে থাকে। 
তাছাড়াও দুবাই যেতে কত টাকা লাগে এটা নির্ভর করে এজেন্সির উপর। বিভিন্ন ধরনের ভিসা এজেন্সি ভিন্ন ভিন্ন ভিসা ফি চার্জ করে থাকে। তাই সঠিকভাবে দুবাই ভিসা খরচ কত এ সম্পর্কে বলা সম্ভব নয়। আপনারা চাইলে কোন দুবাই প্রবাসী এর কাছ থেকে খোঁজ নিতে পারেন অথবা ভিসা এজেন্সির কাছ থেকে তথ্য নিতে পারেন। 
তবে আনুমানিকভাবে বলা যায় বাংলাদেশ থেকে দুবাই যেতে হলে সর্বনিম্ন খরচ হয় ৪ লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ খরচ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দুবাই কোম্পানি ভিসার দাম সাধারণত বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও দুবাইতে কাজের চাহিদা বেশি থাকার কারণে দুবাই কাজের ভিসার দাম বেশি হয়। তবে ভিজিট ভিসার খরচ কম হয়ে থাকে।

দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত 

আপনারা যারা দুবাইয়ে কোম্পানি ভিসাতে যেতে চান তাদের অবশ্যই দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিত। দুবাইতে অনেক ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কাজের জন্য কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। আপনারা যারা দুবাইতে কোম্পানিতে কাজ করবেন তাদের অবশ্যই দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত হয়ে থাকে এ সম্পর্কে জেনে রাখতে হবে। কারণ অনেক ব্যক্তির কোম্পানি ভিসা বেতন পছন্দ নাও হতে পারে। 
এজন্য তাদের দুবাই যাওয়ার পূর্বে এই বিষয়টি সম্পর্কে ভালো মতো জানা উচিত। দুবাইতে সাধারণত কাজের উপর ভিত্তি করে বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া দক্ষ শ্রমিকদের বেতন বেশি দেওয়া হয়। যেসব কর্মী অভিজ্ঞ ও দক্ষতা দেখাতে পারবে তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। মূলত দুবাইয়ে দক্ষ শ্রমিকদের বেশি মূল্যায়ন করা হয় যার কারণে তাদের বেতন বেশি দেওয়া হয়। 
আর কোম্পানিতে চাকরির বয়স বেশি হলে তখন বেতন বাড়ানো হয়। তবে নতুন কর্মী জানা তাদের বেতন সাধারণত একটু কম হয়ে থাকে।ধীরে ধীরে চাকরির বয়স বেড়ে গেলে তখন বেতন বৃদ্ধি পায়। আর আপনার যদি অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে তো বেতন অতি সহজে বাড়াতে পারবেন। তবে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত দেওয়া হয়ে থাকে সে সম্পর্কে জেনে নেই।

দুবাই কাজের ধরন

কাজের বেতন(বাংলাদেশি টাকায়)

ইলেকট্রিশিয়ান

৭০ হাজার - ৯০ হাজার টাকা

কনস্ট্রাকশন

৫০ হাজার - ৭০ হাজার টাকা

ডাইভিং

৬০ হাজার - ৮০ হাজার টাকা

হোটেল বয়

৫০ হাজার - ৬০ হাজার টাকা

প্লাম্বার

৭০ হাজার - ৯০ হাজার টাকা

আমরা এখানে উপরের ছকটিতে দুবাইয়ের কোম্পানি ভিসা আনুমানিক বেতন সম্পর্কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আপনারা টেবিলটিতে দেখতে পারছেন যে,
  • দুবাইতে কোন কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান এর কাজ করলে ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাওয়া যায়।
  • দুবাই কোম্পানি ভিসাতে কনস্ট্রাকশন কাজ করলে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়ে থাকে।
  • তাছাড়াও কোম্পানির ডাইভিং কাজের জন্য দুবাইতে ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে বেতন হয়ে থাকে।
  • আর হোটেল boy কাজের জন্য দুবাইয়ে মাসিক বেতন ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।
  • প্লাম্বার বা প্লাম্বিং কাজের জন্য কোম্পানিতে দুবাইয়ে মাসিক বেতন ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
আপনারা তাহলে দুবাইয়ের কোম্পানি ভিসার বেতন সম্পর্কে আনুমানিক ধারণা পেলেন। বেতন সাধারণত কাজের উপর নির্ভর করে কম বেশি হতে পারে। আপনি যদি দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে বেতন বেশি পেতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য ওভারটাইম করার সুযোগ সুবিধা রয়েছে। যেখানে আপনি ওভারটাইম কাজ করে বেতন বাড়াতে পারবেন। আমাদের মতে আপনারা দুবাইতে কোম্পানি ভিসাতে চাকরি করতে চাইলে অবশ্যই প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা নিয়ে যাবেন।

দুবাই সর্বনিম্ন বেতন কত

আপনারা যারা দুবাইয়ে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান তারা অনেকেই দুবাই সর্বনিম্ন বেতন কত এ সম্পর্কে জানতে চান। কারণ অনেক অদক্ষ কর্মী রয়েছে যারা দুবাইতে কাজ করতে যেতে চায়। তারা প্রায় দুবাইয়ের কাজের সর্বনিম্ন বেতন সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে থাকে। কারণ দুবাইতে অদক্ষ কর্মীদের সাধারণত কম বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। 

তবে অভিজ্ঞ ও দক্ষতা অর্জন কর্মীদের বেশি বেতন দেওয়া হয়। দুবাইতে যদি আপনি কোম্পানি ভিসা গিয়ে থাকেন তাহলে অনেক ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন। দুবাইয়ে বর্তমানে অনেক ধরনের বড় বড় কোম্পানি রয়েছে যেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বেতন প্রদান করা হয়। অর্থাৎ কোম্পানি অনুযায়ী বেতনের পার্থক্য দেখা দিতে পারে। 

অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা বেতন বেশি দিয়ে থাকে আবার অনেক কোম্পানি হালকা কম বেতন দিয়ে থাকে। তবে আপনি কাজের দক্ষতা যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে বেশি বেতন পেতে পারেন। কিন্তু প্রত্যেক সাধারণ শ্রমিকের জন্য সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। চলুন আমরা এখন দুবাই সর্বনিম্ন বেতন কত হয়ে থাকে সে সম্পর্কে জেনে নেই।
  • দুবাইতে সাধারণ একজন কর্মীর সর্বনিম্ন বেতন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তাছাড়াও দুবাইতে সাধারণ একজন কর্মীর সর্বোচ্চ মাসিক বেতন বাংলাদেশি টাকায় ১ লক্ষ টাকা থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলে বেতন আরো বাড়ানো হয়ে থাকে। সর্বশেষে বলা যায় দুবাই সর্বনিম্ন বেতন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
আশা করছি আপনারা দুবাই সর্বনিম্ন বেতন কত পর্যন্ত হয়ে থাকে এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এখন যারা অদক্ষ কর্মী রয়েছেন তারা ভেবেচিন্তে দুবাইয়ে যাওয়ার চিন্তা করবেন। কারণ দুবাইয়ে অদক্ষ কর্মীদের কম বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে আপনারা চাইলে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে দুবাই গিয়ে কাজ করতে পারেন,তাহলে বেশি বেতনে চাকরি করতে পারবেন।

দুবাই হোটেল ভিসা বেতন কত

বর্তমানে দুবাই শহরে হোটেলে কাজের চাহিদা রয়েছে, কারণে দুবাইয়ে হোটেল কাজের জন্য বেশি বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। দুবাইয়ের বড় বড় হোটেল গুলো প্রতি বছর অনেক লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাদের হোটেল পরিচালনা কাজ করার জন্য তারা শ্রমিক নিয়োগ দেয়। আপনারা যারা বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে হোটেল কাজের জন্য যেতে চান তারা অবশ্যই দুবাই হোটেল ভিসা বেতন কত হয়ে থাকে এ সম্পর্কে জেনে রাখবেন। 

দুবাইয়ে হোটেলের কাজ করার জন্য তেমন কোনো দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। আপনি ঠিকঠাকভাবে কাজ করলে ভালো পরিমাণ বেতন পেতে পারেন। তবে আপনারা দুবাইয়ে হোটেলে কাজ করার পূর্বে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জন করে নিবেন। এতে করে আপনি হোটেলে গ্রাহকদের সাথে ভালোভাবে কমিউনিকেট করতে পারবেন, যার কারণে আপনি হোটেল মালিকদের কাছ থেকে ভালো বেতন পেতে পারেন। 

তাছাড়া চাইলে আপনি ওই দেশের ভাষা ও শিখতে পারেন। হোটেলে যেহেতু বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে হোটেলে বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। প্রত্যেকটি পদের জন্য আলাদা বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। আপনি কোন পদে চাকরি করবেন তার ওপর ভিত্তি করে বেতন দেওয়া হবে। তবে এখন আমরা দুবাই হোটেল ভিসা বেতন কত দেওয়া হয় সে সম্পর্কে চলুন জেনে নেই।
  • দুবাইয়ের হোটেলে রুম সার্ভিসের কাজের জন্য একজন কর্মীকে মাসিক সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়ে থাকে।
  • দুবাই হোটেল ভিসার মাধ্যমে দুবাইয়ের হোটেলে ক্লিনার কাজ করলে বাংলাদেশী টাকায় আনুমানিক সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে।
  • আর দুবাইয়ের হোটেলে খাবার পরিবেশনের কাজের জন্য একজন কর্মীকে মাসিক সর্বনিম্ন ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
  • দুবাইয়ের হোটেলে ওয়েটারের কাজের জন্য মাসিক বেতন আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
  • তাছাড়াও হোটেলে আনুষঙ্গিক ইলেকট্রিশিয়ান কাজ ও আধুনিক কাজের জন্য ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কাজের দক্ষতা অনুযায়ী বেতন কমবেশি হয়ে থাকে।
আপনারা তাহলে বুঝতে পারলেন দুবাই হোটেল ভিসাতে বেতন কত দেওয়া হয়ে থাকে। আর বিভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বেতন প্রদান করা হয়। যা আমরা উপরের লিস্টে আলোচনা করেছি।

দুবাই ড্রাইভিং ভিসা বেতন কত

আপনাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা দুবাইয়ে গিয়ে ডাইভিং এর কাজ করতে চান। বিশেষ করে যারা ড্রাইভিং জানেন তারা এ কাজ করার জন্যই দুবাই এ গিয়ে থাকেন। তবে দুবাই যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই দুবাই ড্রাইভিং ভিসা বেতন কত এ সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত। বর্তমানে দুবাইয়ে ড্রাইভিং কাজের চাহিদা রয়েছে। যার ফলে প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে অনেক কর্মী দুবাইয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। 

যারা আপনারা গাড়ি ড্রাইভিং করতে পারেন তারাই দুবাইয়ে গিয়ে ড্রাইভিং কাজ করবেন। তাহলে ভালো বেতনে চাকরি করতে পারবেন। দুবাইয়ে ড্রাইভিং ভিসা নিয়ে যেতে পারবেন। তবে দুবাই ড্রাইভিং ভিসার বেতন কত এ সম্পর্কে অনেকেরই অজানা রয়েছে। আজকের এই অংশে আমরা এখন দুবাই ড্রাইভিং ভিসা বেতন কত সকলকে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরব। তবে চলুন ড্রাইভিং ভিসা বেতন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
  • দুবাইতে ড্রাইভিং ভিসার একজন ড্রাইভার কর্মীর মাসিক সর্বনিম্ন বেতন আনুমানিক বাংলাদেশি টাকায় ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
  • দুবাই ড্রাইভিং ভিসায় কর্মরত একজন ড্রাইভার কর্মীর গড় বেতন বাংলাদেশি টাকায় ৯০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
  • তবে ড্রাইভিং ভিসাতে একজন ড্রাইভার শ্রমিকের সর্বোচ্চ মাসিক বেতন বাংলাদেশি টাকায় ১৩০০০০ থেকে ১৪০০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তাহলে আশা করছি আপনারা দুবাই ড্রাইভিং ভিসা বেতন কত এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে গেছেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন দক্ষ ড্রাইভারদের এখানে বেশি বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। তাই আপনি যদি ড্রাইভিং এ এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তাহলে ড্রাইভিং কাজ দুবাই গিয়ে করতে পারেন। তাছাড়া কোম্পানি অনুযায়ী বেতন কমবেশি হতে পারে।

দুবাই যেতে কি কি ডকুমেন্ট লাগে

সাধারণত ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী ডকুমেন্ট ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনি যেই ভিসাতে দুবাই যেতে চান সেই ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকমেন্ট সংগ্রহ করবেন। প্রয়োজনে ডকুমেন্ট ছাড়া আপনি ভিসা আবেদন করতে পারবেন না। ভিসার ধারণা অনুযায়ী ডকুমেন্ট সিলেক্ট করবেন এবং সেগুলো সংগ্রহ করে রাখবেন। তবে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে দুবাইয়ের ভিসা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কি কি লাগে সেগুলো জেনে নেই।
  • একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  • মেডিকেল সনদপত্র
  • কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
  • কাজের দক্ষতার প্রমাণপত্র
  • পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা রঙিন ছবি
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  • জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড ফটোকপি
  • ভিসা অনুযায়ী অন্যান্য কাগজপত্র
তাছাড়াও ভিসার ধরন অনুযায়ী আরো কিছু কাগজপত্র লাগতে পারে সেগুলো আপনারা ভিসা এজেন্সির কাছ থেকে জেনে নিবেন। আর কাগজগুলো সংগ্রহ করে আবেদন করবেন।

দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ কত

বর্তমানে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হল দুবাই শহর। ভ্রমণ করার জন্য জনপ্রিয় একটি শহর হল দুবাই। যেখানে প্রায় সকল মানুষেরাই ভ্রমন করতে যেতে চায়। দুবাই শহরে রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল , বিল্ডিং , রেস্টুরেন্ট ও রোমাঞ্চকর মরুভূমি। দুবাই আপনারা ভিসা আবেদন করার মাধ্যমে যেতে পারেন। আপনারা দুবাই ভিসা দুইভাবে আবেদন করতে পারবেন। আপনি নিজে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন অথবা ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। 
দুবাই ভিজিট ভিসা খরচ কত
দুবাইয়ে যারা ভ্রমণ করার জন্য যেতে যাচ্ছেন তাদের অবশ্যই দুবাই ভিজিট ভিসা আবেদন করতে হবে। দুবাই ভিজিট ভিসা মেয়াদকাল সাধারণত ১ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। আপনারা যদি বাংলাদেশ থেকে দুবাই ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাইয়ে যান তাহলে ভিসার জন্য খরচ হবে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তবে খরচের বিষয়টা বিভিন্ন এজেন্সির ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে। এজন্য আপনারা অবশ্যই বিশ্বস্ত এজেন্সির কাছ থেকে ভিসা আবেদন করবেন। আর অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন।

দুবাই কোম্পানি ভিসা খরচ কত

আপনারা যারা দুবাই কোম্পানি ভিসাতে যেতে চাচ্ছেন তাদের অবশ্যই দুবাই কোম্পানি ভিসা খরচ কত এই বিষয়টি সম্পর্কে জেনে রাখা উচিত। কারণ অনেকেই দালালের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। আপনি যদি প্রতারিত না হতে চান তাহলে অবশ্যই দুবাই কোম্পানি ভিসা খরচ সম্পর্কে জেনে রাখবেন। তাছাড়াও অনেক এজেন্সি রয়েছে যারা ভিসার জন্য অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে, তাদের থেকে সাবধান থাকবেন। 

আপনি যদি সরকারিভাবে কোম্পানি ভিসা নিয়ে দুবাই যেতে চান তাহলে দুবাই কোম্পানি ভিসা খরচ ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বেসরকারিভাবে এজেন্সির মাধ্যমে দুবাই কোম্পানি ভিসাতে গেলে ভিসার জন্য খরচ হতে পারে ৫ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। তবে ভিসা এজেন্সি অনুযায়ী ভিসার খরচ কম বেশি হয়ে থাকে।

দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত এ সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা(FAQs)

প্রশ্নঃদুবাই কোম্পানি ভিসার দাম কত?
উত্তরঃ দুবাই কোম্পানি ভিসার দাম সাধারণত তিন লক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকা হয়ে থাকে। তবে বেসরকারিভাবে এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা আবেদন করে গেলে ৫ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

প্রশ্নঃদুবাই কাজের ভিসা পেতে কতদিন লাগে?
উত্তরঃ দুবাই কাজের ভিসা পেতে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ দুবাই কাজের ভিসা পেতে ৬০ দিন লাগে।

প্রশ্নঃদুবাইতে কি সহজে চাকরি পাওয়া যায়?
উত্তরঃ দুবাইতে দক্ষ শ্রমিকরা সহজে চাকরি পেতে পারে। বর্তমানে চাকরির বাজার খুবই প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার কারণে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আপনার দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা থাকলে আপনি অতি সহজেই দুবাইতে চাকরি পেতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃকাজের জন্য দুবাই যাওয়ার উপায়?
উত্তরঃ আপনারা কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন করে দুবাই যেতে পারেন। তাছাড়া সরকারিভাবে ভিসা আবেদন করার মাধ্যমে দুবাই যাওয়া যায়। আশা করছি আপনারা বুঝতে পেরেছেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আশা করছি আপনারা আজকের এই সম্পূর্ণ পোস্টটিতে দুবাই কোম্পানি ভিসা বেতন কত ও দুবাই যেতে কত টাকা লাগে এই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে গেছেন। তাছাড়াও দুবাই কোম্পানি ভিসার খরচ সম্পর্কেও পোস্টটিতে আলোচনা করা হয়েছে। যার ফলে আপনারা ভিসার খরচ সম্পর্কে জানতে পারলেন। 

এর পাশাপাশি দুবাই ভিসা আবেদন করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে দুবাই ভিসা আবেদন করার চেষ্টা করবেন। আর অবশ্যই দুবাই কাজের উদ্দেশ্যে গেলে আগে থেকেই কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখবেন। তাহলে আপনি ভালো বেতনে কাজ করতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url