১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়াগুলো জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আপনারা কি ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাহলে একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। কারণ আজকের এই আর্টিকেলটিতে ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আপনারা চাইলে ১০ হাজার টাকায় বিভিন্ন ধরনের লাভজনক ব্যবসা করতে পারেন।
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
পোস্টসূচীপত্রঃআপনারা যদি কম পুঁজিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে চান তাহলে অবশ্যই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। কারণ আজকের এই আর্টিকেলে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে তুলে ধরা হবে।

ভূমিকা

বন্ধুরা আপনারা নিশ্চয়ই অল্প পুজিতে লাভজনক ব্যবসা করতে চান। বর্তমানে আমাদের দেশের কম বেশি সকলেই ব্যবসা করে আসছে। আপনারও চাইলে বিভিন্ন রকম ব্যবসা করে সফল হতে পারবেন। আর অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমেই দশ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে অল্প পুজিতে ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই কিছু দক্ষতা, সৃজনশালী ভাব ও কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে দক্ষতা না থাকলে কখনোই আপনি অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করতে পারবেন না। 
এজন্য ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই কিছু বিষয়ে দক্ষতা ও সৃজনশীল ভাব অর্জন করতে হবে। তাহলে একমাত্র আপনারা অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করে ভালো লাভ করতে পারবেন। তবে তার আগে আপনাদের অবশ্যই ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। আপনারা যেহেতু দশ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন তাহলে অবশ্যই সেই ব্যবসা গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে যা আমরা আজকের এই পুরো পোস্টে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করব।

১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া

বর্তমানে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে যে কোন ব্যবসা করার আগে অনেকবার ভাবনা চিন্তা করতে হয়। তারপর সেটি যদি অল্প পুজিতে ব্যবসা হয়ে থাকে তাহলে আরো বেশি গুরুত্ব সহকারে সে সম্পর্কে ভাবতে হয়। কারণ জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে বর্তমানে ছোটখাটো ব্যবসা করে সহজে লাভবান হওয়া যাচ্ছে না। তবে যদি আপনারা বুদ্ধি খাটিয়ে দক্ষতা ও ধৈর্যের সহিত কাজ করেন তাহলে অবশ্যই কম পুজিতেও ব্যবসা করে লাভবান হতে পারবেন। 

আপনারা হয়তো ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছেন। এই যুগে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা করার অনেক কঠিন ব্যবহার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আপনি চাইলে ১০০০০ টাকা দিয়েও ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু আপনার থাকতে হবে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং সঠিক পরিকল্পনা করা চিন্তাভাবনা। একমাত্র ধৈর্য আর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আপনি কম পুজিতেও ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন।  
১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া
১০ হাজার টাকা দিয়ে আপনারা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আর সেই ব্যবসা গুলো সম্পর্কে আইডিয়া দিতে আমরা আজকের এই পোস্টটিতে হাজির হয়েছি। তাই ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানতে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকুন। নিম্নে ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া ও নাম তুলে ধরা হলোঃ
  • অনলাইনে শিক্ষকতা
  • ট্যুর গাইড
  • দর্জির দোকান
  • মোবাইল রিচার্জ দোকান
  • ইউটিউব চ্যানেল
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • চায়ের দোকান
  • অনলাইনে মেয়েদের বোরকা বা থ্রি-পিস বিক্রয়
  • ফাস্টফুডের দোকান
  • নার্সারি করা
  • হাঁস মুরগির খামার
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • মোবাইলফোন এক্সেসরিজ দোকান
  • ট্রাভেল এজেন্সি
  • সিজিনাল ফলের ব্যবসা
  • হোমমেড ফুড ডেলিভারি
  • পুরনো বইয়ের ব্যবসা
  • অনলাইন গিফট শপ
  • মোবাইল সার্ভিসের দোকান
  • ফলের জুসের দোকান
  • ফুলের ব্যবসা
  • লন্ড্রি ব্যবসা
  • ব্লগিং করা
  • কম্পিউটার সার্ভিসিং এর দোকান
উপরোক্ত ব্যবসাগুলো আপনারা ১০০০০ টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন। অল্প পুজিতে উক্ত ব্যবসাগুলো ভালোভাবে করতে পারলে আপনারা ভালো পরিমাণ লাভবান হবেন এবং ব্যবসা করে সফল হতে পারবেন। তবে চলুন ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

১। অনলাইনে শিক্ষকতা

আপনি যে বিষয়ে পারদর্শী সেই বিষয়টি অনলাইনের মাধ্যমে কোর্স করিয়ে অতি সহজে ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। মূলত আপনার যে কোন বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে এবং সেই বিষয়টি সম্পর্কে বোঝানোর ক্ষমতাও থাকতে হবে। আপনি যে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছেন সে বিষয়টি অনলাইনের মাধ্যমে কোর্স করিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের কোর্স করানোর মাধ্যমে আজকাল অনেকেই ভালো ধরনের ব্যবসা করছে। 
তাই আপনারা চাইলেও অনলাইনে শিক্ষকতা করে ভালো পরিমান আয় করতে পারবেন। এই সেক্টরে আপনি অল্প পুঁজিতে শুরু করতে পারবেন। ফেসবুক বা ইউটিউব চ্যানেল থাকলে সেখানে অনলাইনে কোর্স করাতে পারবেন। আপনার কোর্স সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রমোট করতে হয় সেগুলো আপনারা কম খরচে করতে পারবেন। ধরুন আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং এ দক্ষতা অর্জন করেছেন তাহলে সেই বিষয়টি সম্পর্কে আপনি অনলাইনে সবাইকে ধারণা ও শিখিয়ে দিতে পারেন। 

এর জন্য আপনি সামান্য পরিমাণ তাদের কাছ থেকে কোর্স ফ্রি নিতে পারেন। এভাবে আপনি অনলাইনে শিক্ষকতা করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে আপনার অনলাইনে কোর্স করানোর জন্য ভিডিও তৈরি করতে হয় এবং সেই ভিডিও ইউটিউব অথবা ফেসবুকে আপলোড করতে হয়। তাই আপনাদের বাড়িতে ইন্টারনেট কানেকশন বা ওয়াইফাই কানেকশন থাকলেই হয়ে যাবে। 
তাহলে বুঝতে পারছেন কম পুঁজিতে এ ধরনের অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনারা চাইলে অংক , বিজ্ঞান , ভাষা শিক্ষা , ভিডিও এডিটিং , ডিজিটাল মার্কেটিং , গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদিসহ নানা বিষয়ে অনলাইনে কোর্স করাতে পারেন। এই ব্যবসাটি আপনি সর্বনিম্ন ৫০০০ টাকা দিয়েই শুরু করতে পারবেন।

২। ট্যুর গাইড

বর্তমানে ট্যুর গাইড এর চাহিদা বেড়ে চলেছে। কারণ মানুষ এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। এজন্যই বিভিন্ন সময়ে ট্যুর গাইডের প্রয়োজন হয়ে থাকে। ট্যুর গাইডের সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যায়। তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনারা চাইলে ট্যুর গাইডের ব্যবসা করে ভালো পরিমাণ আয় করতে পারবেন। এর জন্য আপনি ট্যুর গাইড এজেন্সিতে যোগ দিতে পারেন। আপনার কাজ হল হোটেল বুকিং , ট্রেনের টিকিট কাটা অর্থাৎ সম্পূর্ণ ট্যুর প্ল্যানিং করা। 
মূলত এখানে অতিথিদের সকল জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং ট্যুর সম্পর্কিত সকল দায়িত্ব পালন করা আপনার কাজ হবে। আপনারা চাইলে কম খরচে এই ট্যুর গাইড ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন হবে আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট যেখানে আপনি ট্যুর সম্পর্কিত বিস্তারিত তুলে ধরবেন। আর আপনাকে সকল ধরনের নতুন নতুন জায়গা খুঁজে বের করতে হবে এবং হোটেল মালিকের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে ও ট্রাভেল এজেন্সির রেট জেনে নিতে হবে। 
এভাবে ট্যুর গাইড ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ধরুন আপনি কক্সবাজারে থাকেন এবং সেখানে ট্যুর গাইডের ব্যবসা করেন। কক্সবাজারে যখন কোন ব্যক্তি ঘুরতে যাবে তখন সেখানকার সকল দর্শনীয় স্থানীয় জায়গা গুলো ঘুরে দেখানো হবে আপনার দায়িত্ব।

৩। দর্জির দোকান

আপনারা অল্প পুঁজিতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দর্জির দোকানের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। দর্জির দোকান দিয়ে ভালো লাভজনক ব্যবসা করতে চাইলে অবশ্যই কিছু দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ভাব থাকতে হবে। নতুন ধরনের ডিজাইন তৈরি করে গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করা এবং গ্রাহকের দেওয়া জামা কাপড় ভালো ভাবে বানিয়ে দেওয়াই হলো আপনার মূল কাজ। তাছাড়াও নতুন ধরনের ডিজাইন বানিয়ে কাপড় তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। 

আবার গ্রাহকদের কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের নকশা করে সৃজনশীল দেখিয়ে আপনার ব্যবসার পরিচিতি বাড়াতে পারেন। এতে করে আপনার ব্যবসার মান উন্নয়ন হবে এবং সকল গ্রাহক আপনার কাছ থেকে সেবা নিবে। তাহলে বুঝতে পারছেন ১০ হাজার টাকা দিয়ে দর্জির দোকান শুরু করা যায় এবং লাভজনকভাবে ব্যবসা করা যায়।

৪। মোবাইল রিচার্জ দোকান

বর্তমানে সকলে কমবেশি মোবাইল ফোনে সিম ব্যবহার করে কথা বলে থাকে। আর মোবাইল ফোনে সিম ব্যবহার করে কথা বলতে হলে মোবাইল ফোনের সিমে ব্যালেন্স রিচার্জ করতে হয়। আর এই রিচার্জ করার জন্য বেশিরভাগ মানুষ দোকানে গিয়ে থাকে। তাহলে বুঝতে পারছেন মোবাইল রিচার্জ এর দোকান এর ডিমান্ড কতটা বেশি। আপনারা চাইলে কম খরচে অল্প পুজিতে মোবাইলে রিচার্জ করার দোকান খুলতে পারেন। এখানে আপনি গ্রাহকদের মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স রিচার্জ করে দিবেন এবং সাথে আরও নগদ , বিকাশ ব্যালেন্স রিচার্জ করতে পারেন। 
তাহলে আপনারা চাইলে নিজের এলাকাতে ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন। এর জন্য নেটওয়ার্ক প্রোভাইড এর সাথে যোগাযোগ করে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে এবং কমিশন রেট জেনে নিতে হবে। এভাবে আপনারা বাড়ির আশেপাশে ছোট দোকান নিয়ে মোবাইল রিচার্জ এর দোকান দিয়ে ১০০০০ টাকায় ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

৫। ইউটিউব চ্যানেল

অল্প পুজিতে অনলাইন থেকে আয় করার আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব চ্যানেল। আপনি ইউটিউব চ্যানেল খোলার মাধ্যমে সেখানে ভিডিও আপলোড করে সহজেই অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। এখানে আপনারা বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। ভ্রমণ বিষয়ক, রান্নাবান্না শেখানো, শিক্ষামূলক ভিডিও ইত্যাদি যে কোন ভিডিও বানাতে পারেন এবং আপলোড করতে পারেন। 
ভিডিও আপলোড করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ফলোয়ার ও সাবস্ক্রাইবের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তাছাড়াও ভিডিও কোয়ালিটি ভালো এবং সাউন্ড কোয়ালিটি ভালো হতে হবে। আপনারা চাইলে মোবাইল দিয়ে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। এছাড়াও কিছু খরচ করে সাউন্ড কোয়ালিটি ভালোর জন্য মাইক্রোফোন ও বিভিন্ন ধরনের এক্সেসরিজ ক্রয় করতে পারেন।

৬। গ্রাফিক্স ডিজাইন

আপনারা যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ে পারদর্শী তারা এ বিষয়টি নিয়ে অফলাইনে কোর্স করিয়ে টাকা আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ক টিউশনি করে অতি সহজেই আয় করতে পারবেন। কারণ বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা বেড়ে চলেছে। ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে গ্রাফিক ডিজাইন এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। 

এজন্য অনেকে কমবেশি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে চাই। বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে উচ্চমানের কোর্স ফ্রী চার্জ করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার এলাকায় ছোট্ট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে কোর্স ফ্রি কম রেখে গ্রাফিক্স ডিজাইন এর শিক্ষা দিতে পারেন। ১০০০০ টাকার কম খরচে এই ব্যবসা শুরু করা যায়।

৭। চায়ের দোকান

১০ হাজার টাকা দিয়ে যদি আপনি ভালো ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই চায়ের দোকান দিয়ে শুরু করতে পারেন। চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করলে সহজে লাভবান হতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে হবে। চায়ের ব্যবসা করতে হলে একটি ছোট দোকান ভাড়া নিতে হবে এবং দোকানে বিভিন্ন ধরনের স্নেক জাতীয় খাবার সরবরাহ করতে হবে। আর চায়ের দোকানের ডেকোরেশন ভালো এবং সুন্দর হতে হবে। 
তাহলে আপনার ব্যবসা বড় হতে থাকবে। তাছাড়াও কম দামে ভালো মানের চা তৈরি করতে হবে। যার ফলে গ্রাহকরা কম দামে চা খেতে পারবে এবং ভালো সার্ভিস পাবে। এতে করে আপনার দোকানের পরিচিতি বাড়বে সাথে চায়ের ব্যবসা বাড়তে থাকবে। চায়ের দোকান এর ব্যবসা আপনি ১০ হাজার টাকার মধ্যে পরিপূর্ণ গড়ে তুলতে পারবেন। শুধু আপনাকে ধৈর্য সহকারে পরিশ্রম করে কাজ করে যেতে হবে।

৮। অনলাইনে মেয়েদের বোরকা বা থ্রি-পিস বিক্রয়

অনলাইনে মেয়েদের বোরকা বা থ্রি পিস বিক্রি করে অতি সহজেই ঘরে বসে ইনকাম করতে পারবেন। এখানে আপনি অনলাইন প্লাটফর্মে কাপড় বিক্রি করতে পারেন। এর জন্য আপনার বিভিন্ন ধরনের নতুন ডিজাইনের কাপড়, বোরকা ও থ্রি পিস মজুদ রাখতে হবে। কারণ আকর্ষণীয় ও ভালো মানের কাপড় মেয়েরা পছন্দ করে থাকে। আপনার অনলাইন প্লাটফর্মে ভালো মানের আকর্ষণীয় বোরকা বা থ্রি পিস এর বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। 

এক্ষেত্রে অনলাইনে আপনার ফেসবুক পেজ অথবা ইউটিউব চ্যানেল থাকতে হবে। ফেসবুক পেজে আপনি বোরকা বা থ্রি পিস এর ছবি এবং দাম সহ বর্ণনা দিয়ে রাখতে পারেন। তাহলে গ্রাহকদের অনেকটা সুযোগ সুবিধা হয়ে থাকে পোশাকটি সম্পর্কে জানতে। এভাবে আপনি অনলাইনে বোরকা বা থ্রি পিস এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনারা কম দামে ভালো মানের কাপড় কিনে বিক্রয় করতে পারবেন। এই ব্যবসা আপনারা ১০০০০ টাকার মধ্যে সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

৯।ফাস্টফুডের দোকান

আপনারা চাইলে কিন্তু ফাস্ট ফুডের দোকান খুলতে পারেন। কারণ বর্তমানে যুবকরা ফাস্টফুড বেশি খেয়ে থাকে যার ফলে এর চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাহলে বুঝতে পারছেন ১০০০০ টাকায় আপনি একটি ফাস্ট ফুডের দোকানের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু এখানে আপনাকে অবশ্যই ভালো মানের ফাস্টফুড তৈরি করতে হবে। তাহলে গ্রাহকরা আকর্ষণ হবে এবং আপনার ব্যবসা ভালো চলবে। এছাড়াও ফাস্ট ফুডের দোকান এর প্রচার করতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার বা এলাকায় মাইকিং করে জানাতে পারেন। এভাবে আপনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে অনায়াসেই ফাস্ট ফুডের দোকান খুলে লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

১০। নার্সারি করা

নার্সারি ব্যবসা করার মাধ্যমেও ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা যায়। আর এটি আপনি ১০ হাজার টাকাতেই শুরু করতে পারবেন। বর্তমানে আমাদের দেশে ছাদ বাগানে করার চাহিদা বেড়েই চলেছে। এর ফলে নার্সারি গুলোতে ভাল রকমের ব্যবসা হচ্ছে। আপনারা বাড়ির ছাদে অথবা বাড়ির আশেপাশে নার্সারি শুরু করতে পারেন। এজন্য আপনার নার্সারিতে ভালো মানের গাছের চারা ও ফুলের চারা আনতে হবে। 
আরো জানুনঃ ডেঁপ সারের কাজ কি
তাছাড়াও আপনারা গাছগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। এর জন্য অনলাইনে প্রচার করতে হবে। আর নার্সারির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই নার্সারিতে থাকা গাছগুলোর ভালোভাবে যত্ন নিতে হবে এবং গাছ সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। তাহলে আপনি ১০০০০ টাকা দিয়ে নার্সারির ব্যবসা শুরু করে সফল হতে পারবেন।

১১। হাঁস মুরগির খামার

অল্প পুঁজি থাকলেই হাঁস মুরগির ছোট খামার গড়ে তোলা যায়। আপনারা হাঁস মুরগির ছোট খামার গড়ে তুলে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। গ্রামে প্রায় সকল মানুষই হাঁস মুরগি পালন করে থাকে কিন্তু শহরে হাঁস মুরগি পালন করতে তেমন দেখা যায় না। সে ক্ষেত্রে আপনি হাঁস মুরগি পালন করে ভালো ও পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন। এখন আপনাকে বেছে নিতে হবে কোনটি আপনি পালন করবেন। মুরগি অথবা হাঁস যে কোন একটি পালন করতে হবে। 
যদি মুরগি পালন করতে চান তাহলে প্রথমে মুরগির জন্য বাসস্থান তৈরি করতে হবে যেখানে আপনি পাঁচ হাজার টাকাতেই সম্পন্ন করতে পারবেন। তারপর বাকি ৫০০০ টাকা দিয়ে মুরগির বাচ্চা কিনতে হবে। আর অবশ্যই সেই বাচ্চাগুলো ভালো মনে হতে হবে। তাহলে এভাবেই আপনারা হাঁস মুরগি ছোট খামার গড়ে তুলতে পারবেন এবং ১০০০০ টাকাতে ভালো ধরনের ব্যবসা হবে।

১২। কনটেন্ট রাইটিং

অনলাইন থেকে আয় করা সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে কনটেন্ট রাইটিং করা। আপনারা কিন্তু ওয়েবসাইটে কন্টেন্ট রাইটিং করে আয় করতে পারবেন। ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া গুলোর মধ্যে এই ব্যবসাটি সবচেয়ে ইউনিক এবং অন্যতম। কারণ এখানে তেমন ধরনের কোন খরচ নেই। আপনার যদি আগে থেকেই কম্পিউটার অথবা মোবাইল থাকে তাহলে সেগুলো ব্যবহার করেই কন্টেন রাইটিং করতে পারবেন। আপনারা হয়তো জানেন কন্টেন রাইটিং করার জন্য একটি মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটার এর প্রয়োজন হয়। 

আর সাথে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হয়। আর যদি মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার না থাকে তাহলে আপনারা ১০০০০ টাকার বাজেটে সেগুলো কিনে নিতে পারবেন। কনটেন্ট রাইটিং করার জন্য নিজের ওয়েবসাইট বানাতে পারেন অথবা বিভিন্ন আইটি সেন্টারে কন্টেন রাইটিং এর কাজ করতে পারেন। আপনারা যদি বিনা খরচে কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করতে চান তাহলে অর্ডিনারি আইটি এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা আপনাকে কনটেন্ট রাইটিং শিখিয়ে চাকরি দিবে।

১৩। ডিজিটাল মার্কেটিং

তাছাড়া আপনারা ডিজিটাল মার্কেটিং করে অনলাইনে ভালো ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং এ ভালো পরিমাণ জ্ঞান থাকতে হবে। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে ইউটিউব বা অনলাইন থেকে সামান্য পরিমাণ ধারণা নিতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আপনারা নিজেদের ওয়েবসাইট তৈরি করে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। 

তাছাড়া ডিজিটাল মার্কেটে আরো অনেক বিভাগ রয়েছে যেমন facebook মার্কেটিং, ইউটিউব মার্কেটিং যেগুলোতে আপনারা অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার অনেক ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে আমাদের জানামতে অর্ডিনারি আইটি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখিয়ে থাকে। সেখান থেকে আপনারা কোর্স করে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারবেন।

১৪। মোবাইলফোন এক্সেসরিজ দোকান

১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কারণ বর্তমানে মোবাইল ফোনের এক্সেসরিজ এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। কারণ বর্তমানে যুবসমাজ মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করতে পছন্দ করে থাকে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের স্টাইলিশ ব্যাক পার্ট বা ব্যাক কভার ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মোবাইল পার্টস এর প্রয়োজন হয়। 

আপনার মোবাইল ফোন এক্সেসরিজ এর দোকান খুলে ভালো ধরনের ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন। আপনারা দোকানে মোবাইল সম্পর্কিত সকল ধরনের এক্সেসরিজ মজুদ রাখবেন। যাতে কাস্টমার যেটা চাই সেটা সাথে সাথে দিতে পারেন। তারা এই পণ্যগুলো অনলাইনেও বিক্রয় করতে পারবেন। আপনার ফেসবুক পেজ থাকলে সেখানে বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনার দোকানের পণ্যগুলো বিক্রয় করতে পারবেন।

১৫। ট্রাভেল এজেন্সি

কম পুজিতে ভালো ব্যবসা হিসেবে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা করতে পারেন। বর্তমানে মানুষজন কোথাও ঘুরতে গেলে ব্যস্ততার কারণে অনলাইনে টিকিট কেটে থাকে , তাছাড়া অনলাইনে হোটেল বুকিং ও জায়গা সম্পর্কে জেনে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে ট্রাভেল এজেন্সি হয়ে তাদেরকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে এবং টিকিট বুকিং, হোটেল বুকিং করে দিয়ে ভালো ধরনের ব্যবসা করতে পারেন। এভাবে আপনি সাইড ব্যবসা হিসেবে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে এবং আপনার ট্রাভেল এজেন্সি সম্পর্কে প্রচার করতে হবে।

১৬। সিজিনাল ফলের ব্যবসা 

অল্প সময়ে সিজনাল ফলের ব্যবসা করতে পারেন। অল্প পুঁজিতে অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের ব্যবসা শুরু করা যায় এবং লাভজনক ব্যবসা করতে পারবেন। বর্তমানে আমাদের দেশে সিজনাল ফলের চাহিদা প্রচুর রয়েছে কারণ সিজনাল ফলের দাম একটু বেশি হয়ে থাকে ফলের মানুষজন সহজে কিনতে পারে না। এজন্য আপনারা সিজনাল ফলের ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং ফলগুলোর দাম কম রেখে অর্থাৎ কম লাভে বিক্রয় করতে পারেন। এতে করে কাস্টমাররা খুশি হবে এবং আপনার দোকানের প্রতি আস্থা বেড়ে যাবে। এভাবে আপনারা কম সময়ের মধ্যেই ১০০০০ টাকার আশেপাশে ফলের ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন।

১৭। হোমমেড ফুড ডেলিভারি

আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে হোমমেড ফুড ডেলিভারি ব্যবসাটি অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এর অন্যতম কারণ হলো এই ব্যবসাটি কম পুঁজিতে অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়। আপনি দশ হাজার টাকার কমেও এই ব্যবসা করতে পারবেন। ঘরে বসে খাবার বানিয়ে সেগুলো গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা একেই হোমমেড ফুড ডেলিভারি বলা হয়ে থাকে। এখানে খাবারগুলোকে আকর্ষণীয় হতে হয়। তাহলে বেশি চাহিদা পাওয়া যায়। 
বর্তমানে মহিলাদের জন্য এই ব্যবসাটি অধিক জনপ্রিয় হয়েছে। কারণ মহিলারা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের খাবার বানিয়ে সেগুলো বিক্রি করে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে। ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় খাবার বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতে হয়। আর অবশ্যই খাবারগুলো গুণগতমান ও খাবারের স্বাদ ঠিক থাকতে হবে।

১৮। পুরনো বইয়ের ব্যবসা

বইপ্রেমী মানুষদের কাছে পুরনো বইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পুরনো বই বিক্রয়ের ব্যবসা অনলাইনে বেড়ে চলেছে। আপনারাও চাইলে পুরনো বই সংগ্রহ করে অনলাইনে তা বিক্রয় করে ব্যবসা করতে পারেন। অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা আছে যারা নতুন বই কিনতে পারেন না, ফলে তারা এক বছর আগের পুরনো বই কিনতে চায়। এজন্য আপনারা তাদের চাহিদা গুলো পূরণ করতে এবং আপনার লাভজনক ব্যবসা গড়ে তুলতে পুরনো বইয়ের ব্যবসা করতে পারেন। 

এখানে আপনাকে অবশ্যই এনালাইসিস করে বইগুলো সংগ্রহ করতে হবে। কারণ সকল ধরনের বই বিক্রি হয় না। যে ধরনের বই মানুষ বেশি পছন্দ করে এবং আকর্ষণীয় সেই ধরনের বইগুলো সংগ্রহ করতে হবে। আর অবশ্যই পুরনো বইগুলোর কন্ডিশন ভালো থাকতে হবে। তাহলে মানুষজন কিনতে আগ্রহী হবে। ১০ হাজার টাকার কম পুজিতেই আপনারা এ ধরনের ব্যবসা করে তুলতে পারেন।

১৯। অনলাইন গিফট শপ

বর্তমানে আমাদের দেশে অনলাইনে শপিং এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অথবা প্রিয় মানুষকে গিফট দেয়ার জন্য কম দামে ভালো মানের গিফট খুজে থাকে। আর তারা বেশিরভাগ গিফট খোঁজার জন্য অনলাইনে সার্চ করে থাকে এবং অনলাইন থেকে কিনে থাকে। এজন্য আপনারা চাইলে অনলাইনে একটি গিফট শপ খুলতে পারেন। যেখানে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় গিফট বক্স বানিয়ে বিক্রয় করতে পারেন। 

আর অবশ্যই মনে রাখবেন গিফট গুলো হবে ইউনিক , আকর্ষণীয় ও সৃজনশীলতা ধরনের। আপনার বাজার থেকে পাইকারি দামে গিফটের উপাদান গুলো কিনে গিফট বক্স বানিয়ে খুচরা দামে বিক্রি করতে পারেন। এভাবেই ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে বড় ধরনের ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন। এর জন্য আপনারা ধৈর্য ও পরিশ্রম করতে হবে।

২০। মোবাইল সার্ভিসের দোকান

তাছাড়াও মোবাইল সার্ভিস এর দোকান খুলেও ব্যবসা করতে পারেন। কারণ বর্তমানে সকলেরই কমবেশি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এ সময় তারা ভাল মানের মোবাইল সার্ভিসের দোকান খুঁজে থাকে। আপনি চাইলে একটি ভালো মনের মোবাইল সার্ভিসের দোকান খুলে টাকা আয় করতে পারেন। 

এর জন্য আপনার দোকানের পরিচিতি বাড়াতে হবে এবং মোবাইল সার্ভিস সেবা ভালো দিতে হবে। কম খরচে ভালো মানের সার্ভিস দিলেই আমি আপনার ব্যবসা বড় আকারে দাঁড় করাতে পারবেন। আপনি বাজারে ছোট একটি দোকান ভাড়া নিয়ে প্রথম দিকে অল্প পুঁজিতে মোবাইল সার্ভিসিং এর ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

২১। ফলের জুসের দোকান

আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে প্রচুর গরমে মানুষজন ঠান্ডা পানির পাশাপাশি ঠান্ডা ফলের জুস খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আপনারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফলের জুসের দোকান দিয়ে ব্যবসা করতে পারেন। গরমে প্রায় সকলেই ঠান্ডা ফলের জুস খেতে পছন্দ করে থাকে। তাহলে আপনারা বিভিন্ন ধরনের ফল সংগ্রহ করে সেগুলোর জুস বানিয়ে ঠান্ডা করে বিক্রি করতে পারেন। এছাড়াও চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে ফলের জুসগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রয় করতে পারেন। আপনারা কম টাকাতেই এ ধরনের ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন।

২২। ফুলের ব্যবসা

বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে আপনারা ফুলের ব্যবসা করতে পারেন। বর্তমানে যে কোন অনুষ্ঠানেই মানুষজন ফুল নিয়ে যায় গিফট দেওয়ার জন্য। আপনারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুলের তোড়া বানিয়ে বিক্রি করতে পারেন। বিশেষ করে যেসব উৎসব ফুলের চাহিদা বেশি সেই সময়ে এই ব্যবসা গুলো শুরু করতে পারেন। ফুলের ব্যবসা বর্তমানে অধিক জনপ্রিয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যার ফলে যে কেউ কম খরচে ও কম পুঁজিতেই এই ব্যবসা করতে পারে।

২৩। লন্ড্রি ব্যবসা

গ্রাহকদের কাপড় পরিষ্কার ও কাপড় ইস্ত্রি করার মাধ্যমে লন্ড্রি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসাতে তেমন ধরনের পুঁজি দরকার হয়না। শুধুমাত্র একটি দোকান ভাড়া নিতে হয় এবং কাপড় পরিষ্কার করার মেশিন অথবা কাপড় ইস্ত্রি করার যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। এসব সরঞ্জাম জোগাড় করতে পারলেই আপনারা যেকোনো সময়ে লন্ডি ব্যবসা করতে পারবেন। বর্তমানে মানুষজন সময়ের অভাবে বাড়িতে কাপড় ইস্ত্রি করতে চাই না ফলে লন্ডিতে দিয়ে আসে। এজন্য লন্ড্রি ব্যবসার অধিক চাহিদা রয়েছে।

২৪। ব্লগিং করা

এখানে ব্লগিং ব্যবসা বলতে ওয়েবসাইটে কাজ করা বোঝাই। আপনারা চাইলে নিজের ওয়েবসাইট বানিয়ে ব্লগিং শুরু করার মাধ্যমে ভালো পরিমাণ অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। সাধারণত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৩ হাজার টাকার খরচ হয়ে থাকে। আর যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন ১০ হাজার টাকার কম পুঁজিতেই ওয়েবসাইট ব্লগিং করে ব্যবসা শুরু করা যায়। এখানে মূলত আপনাকে ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল ও পোস্ট লিখতে হয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনারা হয়তো আগেই ভালোভাবে জানেন। তাই আমরা আর বিস্তারিত আলোচনা করছি না।

২৫। কম্পিউটার সার্ভিসিং এর দোকান

বর্তমানে আমাদের সকলের বাড়িতেই কম্পিউটার রয়েছে। এই কম্পিউটারগুলোর সাধারণত বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা সমস্যা হতে পারে। এ সময় গ্রাহকরা কম্পিউটার সার্ভিসিং করার জন্য দোকানে গিয়ে থাকে। আপনারা কিন্তু কম্পিউটার সার্ভিসিং দোকান খুলে কম্পিউটার সার্ভিসের কাজ শুরু করতে পারেন। 
এই ব্যবসাটি খুবই জনপ্রিয় কারণ এমন কোন বাড়ি নেই যেখানে কম্পিউটার নেই, তাই সকল মানুষের বাড়িতেই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ রয়েছে। এর ফলে কোন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকলে তারা সার্ভিস করতে যায়। এখানে আপনি যদি ভালো মানের কম্পিউটার সার্ভিসিং এর দোকান খুলতে পারেন তাহলে অনেক কাস্টমার পাবেন এবং এই ব্যবসা থেকে ভালো অর্থ আয় করতে পারবেন।

১০ হাজার টাকায় ব্যবসার আরও কিছু আইডিয়া

আমরা নিম্নে আরো কিছু দশ হাজার টাকার মধ্যে শুরু করা যায় এমন ব্যবসার তালিকা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। তবে আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক ১০ হাজার টাকায় ব্যবসার আরো কিছু আইডিয়াগুলো সম্পর্কে।
  • মসুমি ফলের ব্যবসা
  • পুরনো ফার্নিচার বেচাকেনার ব্যবসা
  • এয়ার টিকেট কমিশন এজেন্ট
  • ফুচকার ব্যবসা
  • ফুডভ্যান
  • কাঁসা ও পিতলের ব্যবসা
  • ফুড ডেলিভারি সার্ভিস
  • বিউটিশিয়ান
  • ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার
  • অনলাইনে বই বিক্রি
  • কোচিং সেন্টার ব্যবসা
  • ঝাল মুরির বিক্রি
  • বিউটি পার্লার ব্যবসা

ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্নঃভারতে ব্যবসা করতে কত টাকা লাগে?
উত্তরঃ ভারতে ব্যবসা করতে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা লাগতে পারে। তবে ব্যবসার ধারণা অনুযায়ী অল্প পুজিতেও ব্যবসা শুরু করা যায়।

প্রশ্নঃ ১০ হাজার টাকায় কোন ব্যবসা ভালো?
উত্তরঃ ১০ হাজার টাকায় আপনারা আচার তৈরির ব্যবসা, ফলের জুসের দোকান, মোবাইল অ্যাক্সেসরিজ ইত্যাদি ব্যবসা গুলো করতে পারেন। যেগুলো অতি সহজেই ভালোভাবে করা যায়।

প্রশ্নঃ10000 টাকা দিয়ে কি ব্যবসা করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ অবশ্যই ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়। এখানে আপনারা টিফিন ক্যারিয়ার ব্যবসা, ব্লগিং, ফুড ডেলিভারি ব্যবসা করতে পারেন। এছাড়া আরো অনেক ধরনের ব্যবসা রয়েছে যেগুলো আমরা পুরো পোস্টে বিস্তারিত তুলে ধরেছি।

প্রশ্নঃচাকরির পাশাপাশি আর কি করা যায়?
উত্তরঃ চাকরির পাশাপাশি আপনারা ব্লগিং শুরু করতে পারেন। আপনার এটি নিজের ওয়েবসাইট থাকবে সেখানে আপনি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি করে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে পারেন।

প্রশ্নঃকোন ব্যবসা বেশি লাভজনক?
উত্তরঃ ভালোভাবে কাজ করলে এবং পরিশ্রম করলে যেকোনো ব্যবসাতে ভালো অর্থ উপার্জন করা যায়। তবে বর্তমানে আইটি সার্ভিস ও প্রযুক্তি পরিষেবা ব্যবসা গুলো বেশি লাভজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখকের মন্তব্য

আজকের এই পুরো পোস্টে ১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। আপনারা এই পুরো পোস্ট পড়লে ভালোভাবেই ব্যবসার আইডিয়াগুলো সম্পর্কে বুঝে যাবেন এবং জেনে যাবেন। এখন আপনি যদি ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে পোস্টে উল্লেখিত ব্যবসা গুলো শুরু করতে পারেন। আপনার পরিচিতদের অল্প পুঁজিতে ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে জানাতে পোস্টে শেয়ার করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি বিডির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url